আমরা কীভাবে কাজ করি
সম্পাদকীয় নীতি
নিয়মগুলো লিখে না রাখলে আপনার হাতে আমাদের যাচাই করার মতো কিছু থাকে না। নিচের যে কোনো একটি নিয়ম সাইটের কোনো পাতায় ভাঙা হয়েছে দেখলে, সেটা আমাদের জানানোর মতো একটা সমস্যা।
এক। যাচাই: মূল উৎসে ফিরে যাওয়ার পথ না থাকলে লিখি না
কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে বলা প্রতিটি কথার পেছনে থাকতে হবে ইস্যুকারীর নিজের নথি অথবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাতা। তৃতীয় পক্ষের লেখায় যা বলা হয়েছে, সেটাকে তথ্যের উৎস হিসেবে আমরা নিই না — অন্যের ভুল টুকে আনলে সেটা আমাদেরই ভুল হয়ে দাঁড়ায়।
উৎসের তালিকা খোলা আছে তথ্যের উৎস পাতায়। লেখার ভেতরে অফিশিয়াল পাতা উদ্ধৃত করলে সরাসরি লিংক দেওয়া থাকে, আপনি নিজে ক্লিক করে মিলিয়ে নিতে পারবেন।
যা খুঁজে পাওয়া যায়নি, তা নিয়ে লিখি “খুঁজে পাওয়া যায়নি”। সাইটে “ইস্যুকারীর তৎকালীন নথি অনুযায়ী”, “অঞ্চলভেদে নিয়ম আলাদা” — এ ধরনের বাক্য যেখানে দেখবেন, বেশিরভাগ সময় সেটাই আমাদের যাচাইয়ের শেষ সীমা; কথা ঘোরানো নয়।
দুই। সংখ্যা: যা বদলায়, তা বসিয়ে রাখি না
প্ল্যাটফর্মের ফি, সীমা, ন্যূনতম সাবস্ক্রিপশনের অঙ্ক, চলতি বার্ষিক হার, সম্পদের আকার — এগুলো যে কোনো দিন বদলাতে পারে। সাইটে এর সমাধান তিনটি:
- না লিখে পারলে লিখি না, বদলে অফিশিয়াল পাতায় পাঠিয়ে দিই।
- লিখতেই হলে পরিসর বা প্রবণতা হিসেবে লিখি, আর যাচাইয়ের মাস-বছর উল্লেখ করি।
- টুলের ভেতরের সব সংখ্যা ব্যবহারকারী নিজে বসান; কোনো পণ্যের ফি আমরা আগে থেকে বসিয়ে রাখি না।
প্রোটোকল-স্তরের তথ্য (যেমন ব্লক-টাইম, কন্ট্রাক্ট স্ট্যান্ডার্ড — যা নীতির সঙ্গে বদলায় না) সরাসরি লিখে দেওয়া যায়।
তিন। সিদ্ধান্ত নয়, পদ্ধতি
“এটা কেনার মতো”, “ধরে রাখার সুপারিশ করছি” — এ ধরনের বাক্য সাইটে থাকে না। কারণটা দায় এড়ানো নয়; কারণ ও ধরনের রায় দিতে হলে আপনার আর্থিক অবস্থা, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা আর ধরে রাখার উদ্দেশ্য জানতে হয় — যা আমরা জানি না।
তাই লেখাগুলোর আকার এ রকম: কাঠামো খুলে দেখানো, যে প্রশ্নগুলো করা দরকার সেগুলোর তালিকা করা, যাচাইয়ের পদ্ধতি পরিষ্কার করে লেখা — তারপর সিদ্ধান্ত আপনার। টুলও একই নিয়মে চলে: প্রকল্প যাচাই চেকলিস্ট আপনাকে “কেনা যায়” বলে কোনো রায় দেবে না, শুধু দেখিয়ে দেবে কোন কোন জিনিস আপনার এখনো যাচাই করা বাকি।
চার। ঝুঁকির কথা পাশেই থাকবে, কোণায় গুঁজে নয়
আয় নিয়ে কথা বলা যে কোনো অনুচ্ছেদের আশেপাশেই ঝুঁকির কথাটা থাকতে হবে — সবটা জড়ো করে লেখার শেষে বা কেবল এ ধরনের সাইট-তথ্যের পাতায় ফেলে রাখা চলবে না। বেশি বার্ষিক হারের জিনিসের বেলায় দামটা আরও স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
“প্রায় ঝুঁকিহীন”, “নিশ্চিত লাভ”, “মূলধন সুরক্ষিত” — এ ধরনের শব্দও আমরা ব্যবহার করি না। স্পর্শকাতর বলে নয়; এই ক্ষেত্রে কথাগুলো সহজভাবেই সত্যি নয় বলে।
পাঁচ। ছবি
সাইটের ছবি দুই ধরনের। স্ক্রিনশট হলো সত্যিকারের পাতার ছবি, আর ক্যাপশনে লেখা থাকে কোন মাস-বছরে নেওয়া; আমরা কেবল অ্যাকাউন্টের তথ্য নেই এমন প্রকাশ্য পাতার ছবি নিই — কারও ব্যালান্স, পজিশন বা পরিচয়ের তথ্য সেখানে থাকে না। কভার আর ব্যাখ্যামূলক ছবি প্রোগ্রাম দিয়ে আঁকা জ্যামিতিক নকশা — ফটোগ্রাফও নয়, জেনারেটিভ মডেলের বানানো ছবিও নয়।
এক্সচেঞ্জ বা ইস্যুকারীর ট্রেডমার্ক-চিহ্ন আমরা ব্যবহার করি না। ব্র্যান্ডের কথা বললে কেবল লেখা দিয়েই বলি।
ছয়। AI কতদূর ঢোকে
এই অংশটা পরিষ্কার করে লেখা দরকার, কারণ আজকাল জিনিসটা সর্বত্র।
যেখানে ব্যবহার করা হয়: তথ্য গোছানো, খসড়ার কাঠামো দাঁড় করানো, বাক্য মসৃণ করা, বানান ও সামঞ্জস্য পরীক্ষা, আর কোড লেখায় সহায়তা (টুলের হিসাবের যুক্তি, পাতার স্টাইল)।
যেখানে ব্যবহার করা হয় না: তথ্যের উৎস হিসেবে। কোনো প্রকল্প নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো দাবির ভিত্তি হিসেবে মডেলের তৈরি করা কনটেন্ট আমরা নিই না — প্রতিবার প্রথম ধারায় বলা মূল উৎসে ফিরে গিয়ে যাচাই করি। মডেল খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল খুঁটিনাটি বলে ফেলতে পারে, আর টাকা-স্বাস্থ্য-জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়ে সেটা মেনে নেওয়া যায় না।
প্রকাশের আগে মানুষের যাচাই: প্রতিটি লেখা প্রকাশের আগে তথ্যগত বক্তব্য, লিংক কোথায় যাচ্ছে, সংখ্যা কীভাবে লেখা হয়েছে আর ঝুঁকির সতর্কতা — সবই মানুষ ধরে ধরে মিলিয়ে দেখে। ভুল হলে দায় আমাদের, যন্ত্রের নয়।
সাত। ভুল হলে ঠিক করি, আর প্রকাশ্যে লিখে রাখি
ভুল ধরা পড়লে আমরা সেটা ঠিক করি এবং সংশোধনীর তালিকা-য় লিখে দিই: কোন লেখাটি বদলেছে, আগে কী লেখা ছিল, ভুলটা কেন ভুল, আর কবে ঠিক করা হয়েছে।
যা করি না: চুপচাপ বদলে দিয়ে দাগ মুছে ফেলা, ভুলটাকে গোলমেলে ভাষায় ঢেকে দেওয়া, কিংবা ভুল স্বীকার করতে খারাপ লাগবে বলে ঠিকই না করা।
সংশোধন দুই স্তরের: বিচারে প্রভাব ফেলে এমন তথ্যগত ভুল লেখাটির ভেতরেই চিহ্নিত করা হয়; বানান আর শব্দচয়নের কাটাছেঁড়া কেবল সংশোধনীর পাতায় লেখা থাকে।
আট। কনটেন্ট আর আয় আলাদা
এই সাইটের আয় আসে এক্সচেঞ্জের প্রচারমূলক লিংক থেকে; বিস্তারিত আছে বাণিজ্যিক ঘোষণা পাতায়। সম্পাদনার দিক থেকে ব্যাপারটা যেভাবে সামলানো হয়:
- প্রচারমূলক লিংক আছে কেবল একটি লেখায়; বাকি সব পাতায় শূন্য।
- প্রকল্পের পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে লেখা, বিজ্ঞাপন গুঁজে দেওয়া রিভিউ বা যে কোনো বিনিময়ে লেখা — কিছুই নেওয়া হয় না।
- এক্সচেঞ্জের তথ্য-পাতায় যাওয়া উদ্ধৃতি-লিংকে কোনো রেফারেল প্যারামিটার থাকে না।
- মেনুবার আর ফুটারে “অ্যাকাউন্ট খুলুন” ধরনের বোতাম বসানো হয় না।
নয়। হালনাগাদ ও পুনরায় যাচাই
এই ক্ষেত্রে শর্ত আর নিয়ম খুব দ্রুত বদলায়। সাইটের লেখায় যাচাইয়ের মাস-বছর দেওয়া থাকে, আর আমরা নিয়ম করে ফিরে গিয়ে আবার মিলিয়ে দেখি — আগে দেখা হয় সেই লেখাগুলো, যেগুলোতে নির্দিষ্ট পণ্যের শর্ত আর যোগ্যতার সীমা নিয়ে কথা আছে, কারণ ওখানেই সবচেয়ে দ্রুত বদল ঘটে।
পুনরায় যাচাইয়ের পর কনটেন্টে সত্যিকারের বদল এলে পাতার তারিখ হালনাগাদ হয় আর সংশোধনীর তালিকায় লেখা থাকে; কিছুই বদলায়নি বলে নিশ্চিত হলে কেবল “নতুন দেখানোর” জন্য তারিখ ঘষে দেওয়া হয় না। ভুয়া হালনাগাদে পাঠকের কোনো লাভ নেই।
এই নীতিগুলো নিয়ে মতামত থাকলে, কিংবা আমরা কোথাও এগুলো মানিনি দেখলে লিখুন huxeva@huxeva.com-এ।
এই পাতা সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।