হিসাবের টুল

টোকেনাইজড ট্রেজারির নিট আয় ক্যালকুলেটর

প্রচারপাতায় লেখা বার্ষিক হার আর আপনার হাতে আসা অঙ্কের মাঝখানে কয়েক স্তর ফি দাঁড়িয়ে থাকে। সংখ্যাগুলো বসিয়ে দিন, দেখুন কাটা শেষে কতটা থাকে। সব হিসাব আপনার ব্রাউজারের ভেতরেই শেষ হয় — বাইরের কোনো ডেটা উৎসে যুক্ত নয়, আপনার লেখা কিছুই কোথাও পাঠানো হয় না।

ইস্যুকারীর পাতায় যে সংখ্যাটা লেখা আছে
বিজ্ঞাপিত হার থেকে ফি আগেই কাটা থাকলে 0 বসান
সাবস্ক্রিপশন ফি, অথবা কেনার সময়ের স্লিপেজ ও দামের ব্যবধান
রিডেম্পশন ফি, অথবা বিক্রির সময়ের স্লিপেজ ও দামের ব্যবধান
অন-চেইন ফি, ব্যাংক ট্রান্সফারের খরচ — অঙ্কের সঙ্গে যেগুলোর সম্পর্ক নেই
হাতে আসা বার্ষিক হার সব খরচ বাদ দিয়ে বার্ষিক হারে রূপান্তর
মেয়াদ শেষে নিট আয় ধরে রাখার সময়টায় সত্যিই যতটা বাড়ল
খরচ যতটা বার্ষিক হার খেয়ে নেয় এককালীন খরচ বার্ষিক হারে রূপ নিলে যে প্রভাব
মোট আয়ের কতটা খরচ মোট আয়ের যতটা ফি খেয়ে ফেলে

তথ্যের উৎস: নেই। এই টুল বাইরের কোনো ডেটা উৎসে যুক্ত নয়, কোনো পণ্যের ফি-হারও এর ভেতরে বসানো নেই। ওপরের প্রতিটি সংখ্যা আপনি নিজে বসান, আর হিসাবটা আপনার ব্রাউজারেই হয়। কোনো পণ্যের আসল ফি জানতে হলে তার নিজের অফিশিয়াল ফি-তালিকা দেখুন।

ফলাফলের ঘরগুলো কীভাবে পড়বেন

হাতে আসা বার্ষিক হার ঘরটাই সবচেয়ে জরুরি। এটা আপনার এককালীন খরচকে ধরে রাখার পুরো মেয়াদে ছড়িয়ে দিয়ে বার্ষিক হারে বদলে দেয় — এই সংখ্যাটাই অন্য বিকল্পের পাশে রেখে তুলনা করা যায়। বিজ্ঞাপিত হার সরাসরি তুলনা করা চলে না, কারণ তাতে আপনার নিজের ঢোকা-বেরোনোর খরচ ধরা থাকে না।

খরচ যতটা বার্ষিক হার খেয়ে নেয় — এই ঘরটাই সাধারণত সবচেয়ে চমকে দেয়। একই ০.৫% যাওয়া-আসার খরচ এক বছর ধরে রাখলে বার্ষিক হারে প্রভাব ০.৫%; আর ত্রিশ দিন ধরে রাখলে সেটাই বার্ষিক হারে ছয় শতাংশ বিন্দু ছাড়িয়ে যায়। মেয়াদ যত ছোট, এই ঘরটা তত ভয়ের।

মোট আয়ের কতটা খরচ — এটা ৩০ শতাংশ ছাড়ালে বেশির ভাগ সময় বুঝতে হবে, এই খরচের কাঠামোর তুলনায় আপনার মেয়াদটা বড্ড ছোট। হয় আরও কিছুদিন ধরে রাখুন, নয়তো ঢোকা-বেরোনোর খরচ কম এমন পথ বেছে নিন।

বসানোর সময় কয়েকটা কথা

“বাড়তি বাৎসরিক ফি” বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ০ থাকবে। ইস্যুকারীর ঘোষিত বার্ষিক হার সাধারণত ব্যবস্থাপনা ফি কাটার পরের সংখ্যা। আপনাকে আলাদা করে কাস্টডি ফি বা প্ল্যাটফর্মের হিসাব-রক্ষণ ফি জাতীয় চলমান খরচ দিতে হলে তবেই এখানে কিছু বসান। দুবার কাটলে ফলাফল বিকৃত হয়ে যাবে।

ঢোকা-বেরোনোর খরচে স্লিপেজ ধরতে ভুলবেন না। সেকেন্ডারি বাজারে গেলে খরচ কেবল লেনদেন ফি নয়, কেনা-বেচার দামের ব্যবধান আর স্লিপেজও আছে। এটা আন্দাজ করার পদ্ধতি লেখা আছে তারল্যের ফাঁদের লেখাটিতে: আপনার পুরো পরিমাণটা লেনদেনের ঘরে বসিয়ে দেখুন, ওটা দামের ওপর কতটা প্রভাব দেখাচ্ছে।

নির্দিষ্ট খরচ দুদিকেরই ধরুন। অন-চেইন ফি ঢোকার সময় একবার, বেরোনোর সময় একবার — দুবারই হিসাবে আসবে। মাঝখানে চেইন বদলাতে বা টাকা সরাতে হলে সেটাও যোগ করে দিন।

এই টুল যা করে না

কর হিসাব করে না। কর নির্ভর করে আপনার কর-আবাসিক পরিচয়, আয়ের ধরন আর স্থানীয় নিয়মের ওপর — সর্বজনীন কোনো সূত্র নেই। হিসাব রাখার লেখাটি বরং বলে, পেশাদারের কাছে যাওয়ার আগে কোন কাগজগুলো গুছিয়ে রাখতে হয়।

মুদ্রার ওঠানামা ধরে না। আপনার স্থানীয় মুদ্রা যদি ডলার না হয়, ধরে রাখার সময়ে বিনিময় হারের বদল আয়ের চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যদ্বাণী করে না। বিজ্ঞাপিত বার্ষিক হার বদলায়, বিশেষত যেসব পণ্য নীতি-সুদের সঙ্গে চলে। এই টুল যা কষে, তা হলো “হার যদি আপনার বসানো জায়গাতেই থাকে” — সেই অবস্থার হিসাব।

এই ক্যালকুলেটর কোন সমস্যাটা মেটায়, সংখ্যা আসে কোথা থেকে (খুলুন)

কোন সমস্যাটা মেটায়

টোকেনাইজড ট্রেজারির মতো পণ্যগুলোর মধ্যে আয়ের ফারাক খুবই কম — এক পণ্য থেকে আরেক পণ্যে হয়তো শতাংশ বিন্দুর ভগ্নাংশ মাত্র তফাত। কিন্তু ঢোকা-বেরোনোর খরচের ফারাক তার চেয়ে অনেক বড় হতে পারে, আর সেই খরচের সঙ্গে মেয়াদের সম্পর্কটা সরলরৈখিক নয়। ফল যা দাঁড়ায়: শুধু বিজ্ঞাপিত হার মিলিয়ে বাছলে প্রায়ই এমন একটা বেছে ফেলা হয় যেটার আসল রিটার্ন খারাপ। এই টুল দুটোকে একই মাপকাঠিতে এনে দাঁড় করায়।

হিসাবের পদ্ধতি

মোট আয় = বিনিয়োগের অঙ্ক × (বিজ্ঞাপিত বার্ষিক হার − বাড়তি বাৎসরিক ফি) ÷ ১০০ × ধরে রাখার দিন ÷ ৩৬৫।
মোট খরচ = বিনিয়োগের অঙ্ক × (ঢোকার খরচ + বেরোনোর খরচ) ÷ ১০০ + নির্দিষ্ট খরচ।
নিট আয় = মোট আয় − মোট খরচ।
হাতে আসা বার্ষিক হার = নিট আয় ÷ বিনিয়োগের অঙ্ক × ৩৬৫ ÷ ধরে রাখার দিন × ১০০।

এখানে সরল সুদ ধরা হয়েছে, চক্রবৃদ্ধি ধরে নেওয়া হয়নি। এ ধরনের পণ্যের আয় সাধারণত দিনে দিনে জমে আর মেয়াদশেষে বা রিডেম্পশনের সময় একবারে মেটানো হয়, তাই সরল সুদ বাস্তবের কাছাকাছি থাকে; আর চক্রবৃদ্ধি ধরে না নিলে ফলাফলকে বাস্তবের চেয়ে সুন্দর দেখানোর ঝুঁকিও থাকে না।

লাইভ ডেটা কেন নেই

RWA পণ্যের ফি আর সাবস্ক্রিপশন-রিডেম্পশনের শর্ত লেখা থাকে তাদের নিজস্ব আইনি নথিতে; সেগুলো তুলে আনার মতো কোনো উন্মুক্ত লাইভ ইন্টারফেস নেই, আর সংখ্যাগুলো ঘন ঘন বদলায়ও না। জোর করে “লাইভ” বানালে সেটা আসলে দাঁড়াবে একটা নিয়মিত হালনাগাদ করা স্ন্যাপশট — অর্থাৎ কপিতে এমন কিছুর দাবি করা, যা করা হচ্ছে না। তাই এই টুল সৎভাবে একটাই কাজ করে: আপনার বসানো সংখ্যাটা কষে দেয়।

কাদের কাজে লাগবে

যিনি দুটো পণ্যের মধ্যে বেছে নিতে বসেছেন, যিনি জানতে চান নিজের মেয়াদটা পোষাচ্ছে কি না, আর যিনি বুঝতে চান “ভাবা অঙ্কের চেয়ে কম এল কেন”। এ ধরনের সম্পদে আদৌ হাত দেবেন কি না সেটাই যদি এখনো ঠিক না হয়, আগে টোকেনাইজড ট্রেজারির পূর্ণাঙ্গ গাইড পড়ে নেওয়া ভালো।

সঙ্গে পড়ুন

ঝুঁকির কথা

হিসাবের ফল কেবল আপনার বসানো অনুমানগুলোই দেখায় — এটা কোনো পণ্যের প্রকৃত রিটার্ন নয়, বিনিয়োগ পরামর্শও নয়। টোকেনাইজড পণ্যে মূলধনের নিশ্চয়তা নেই, আয়ের হার বদলায়, আর চরম পরিস্থিতিতে পুরো মূলধনও হারানো যায়। আসল ফি ও শর্ত ইস্যুকারীর তৎকালীন নথি অনুযায়ী ধরতে হবে।